আবারো চিরচেনা সেই আমি।

bby, Don’t Judge With Me.. Okay! BecauSe, Iam The King Of My Own Kingdom 💋  FollOw Me On:- Facebook – Instagram – Twitter . IMG_20180715_135424_758.JPG

Advertisements

সময়টা বদলে গেছে তাই বলে বদলাইনি আমি!

14448841_704667803014604_8809262344977153867_n.jpg

আমি এই ওয়েব সাইটের লেখক, এই সাইটটি আমার নিজেরই 🙂 তাই এই পোস্টে আমি আমার জিবনের ঘটে যাওয়া পরিস্থিতি বাস্তবতা লিখে শেয়ার করলাম। 

সময়টা বদলে গেছে তাই বলে বদলাইনি আমি. সময়টা বদলে নেবার জন্যেও কারো হাত প্রয়োজন। খারাপ সময়টা পার করে নিব!

সময় খারাপ যাচ্ছে, তা নিয়ে আমি ভাবছিনা।  ভাবছি তাদের নিয়ে, যাদের পাশে আমি ছিলাম তারা আজ কোথায় ???

থেমে গেছি, কিন্তু হেরে যাইনি আবার যদি চলা শুরু করি গন্তব্যে পৌঁছানো পর্যন্ত কেউ থামাতে পারবেনা…

থেমে গেছি, কিন্তু হেরে যাইনি জবাব দেবই অপেক্ষা করো! ( কিছু কথার জবাব না দিলেই নয় ) আমি দুঃখিত,কারণ আমি আবেগি। আমি লজ্জিত,কারণ অসম্ভব আস্থা রেখেছি তাই।। আমি ব্যথিত,কারণ মনোস্তত্ব-মানবতা,আজ বিলুপ্ত !!!!

দুনিয়াটা আজ বড়ই সারথপর কেননা আমার সব কিছুর মাঝেই আজ ঘিরে আছে যত শত শূন্যতা। আমরা কেউ না কেউ পরিস্থিতি আর বাস্তবতার শিকার। শত কিছুর মাঝেও চুপ থাকাটা বেস্ট মনে করি! নিজেকে মানিয়ে নিয়ে যাই। কেননা My Silence Is My Attitude…..

Like Us On:- Facebook

FollOw Me On:- Twitter

FollOw Me On:- Instagram

FollOw Me On :- Google+

Subscribe Me On:- Youtube

 

টিউমারের নিশিকাব্য

insio

শুভ্রর আম্মু জাহানারা বেগম হসপিটালে। আজকে উনার ডেলিভারি। শুভ্র আশা করছে তার একটা ভাই হবে। এবং এই ব্যাপারে সে মোটামুটি নিশ্চিত। ভাইয়ের নামও ঠিক করে ফেলা হয়েছে। মোতাহার ভাই!

 

শুভ্র বিরাট টেনশনে আছে। শুভ্রর বাবা মোতাহার হোসেন দুর থেকে সেটা দেখছেন। ‌টেনশন কমাতে তিনি শুভ্রর পাশে গিয়ে বসলেন। শুভ্র মুখ তুলে তাকালো।

 

– Hello young man

– Hello old man and the sea !

– কি করা হচ্ছে?

– টেনশন করা হচ্ছে।

– কিসের টেনশন?

– ভাইয়ের নাম ঠিক করেছি মোতাহার।

– মোতাহার তো আমার নাম।

– তুমি মোতাহার হোসেন। আর সে শুধু মোতাহার অথবা জনাব মোতাহার।

– জনাব কোনো নাম নয়। এটা একটা সম্বোধন।

– ‍আমরা এটাকে নাম বানাবো।

 

মোতাহার সাহেব নষ্টালজিক হয়ে গেলেন। কলেজ জীবনে উনার থুতনির তলে অল্প কিছু দাড়ি ছিলো। সেই থেকে সবাই উনাকে ছাগল মোতাহার বলে ডাকত। জনাব মোতাহারের ক্ষেত্রেও যদি একই ঘটনা ঘটে ! ছেলের এহেন বিপদে উনি বসে থাকতে পারেন না। দ্রুত নামটা বদলানো দরকার…

 

অপারেশন থিয়েটার থেকে হন্তদন্ত হয়ে ডাক্তার সাহেব বেরিয়ে এলেন। শুভ্রর বাবার দিকে কটমট করে তাকিয়ে বললেন, বাচ্চা কই ! উনার তো পেটে টিউমার হয়েছে !

 

শুভ্রর বাবা চুপ করে রিসিপশনে বসে আছেন। শুভ্র মোটেও অসুখী না। সে টিউমারের নাম দিয়েছে জনাব মোতাহার। টিউমারটি সার্জারী করে কেটে ফেলা হয়েছে। শুভ্র আত্রলিতাকে ফোন দিয়ে একটা পলিথিন ব্যাগ আনিয়েছে। ব্যাগে করে সার্জারীকৃত টিউমারটা বাসায় নিয়ে যাবে শুভ্র। বাসার পেছনের প্রাচীর ঘেরা কাঁঠাল গাছটার নিচে সমাধীস্থ করা হবে জনাব মোতাহারকে। সাথে একটা সমাধীফলক বসানো হবে…

 

সমাধীফলকে লেখা থাকবে – “মোতাহার এখানে ঘুমিয়ে আছে। প্লিজ কেউ ডিস্টার্ব করবেন না”

নির্জনে নিভৃত নিয়মে…

ka-night.jpg

রুম অন্ধকার। নাম্বারটা বোধহয় ৩১৪। এই মূহুর্তে নিশ্চিতভাবে সেটা বলা যাচ্ছেনা। আমি কোনো ওয়ান ম্যান আর্মির সদস্য নই। সেরকম কেউ হলে সাথে অবশ্যই নাইটভিশন গ্লাস থাকত। বাতাসের অনুপস্থিতিতে শূণ্যতার এয়ারপোর্টে ল্যান্ড করা বায়োম্যাসড গ্রিন লিকুইডের মত নাইটভিশনের লাইট গ্রিন ভিউতে গাড় অন্ধকারের মধ্যেও চারহাত দুরের দেয়ালে ঝুলতে থাকা ক্যালেন্ডারের ছোট ডিজিটগুলো দেখা যায়। চাবির রিংয়ে লেখা ডিজিটগুলো তুলনামুলকভাবে আরো বড় হয়। দেয়ালে বসে থাকা টিকটিকি গুলোকে কুমির ভেবে গুলি করে দেয়া যায়…

অন্ধকারে দেখতে না পারাটাকে একধরণের অজ্ঞতা মনে হচ্ছে আমার কাছে। যদিও এটা ব্যাপার নাহ। ছোটবেলা থেকেই অনেক কিছু দেখেও না দেখার ভান করে থেকেছি। ওপাশের জানালায় চলমান ছায়া, দরজার ম্যাগনিফাইং গ্লাসে কারো সিড়ি বেয়ে উপরে উঠা, ডিরেক্ট কল হয়ে সাইলেন্ট মুডের ফোনে আসা কয়েকটা মিসড কল, সাথে আরো কিছু etc etc…

হারতে না শেখা মানুষগুলো আজকাল হারিয়ে যাচ্ছে। হারতে না চাওয়া মানুষগুলো হেরে যাওয়া শিখছে। দুইপক্ষই একজন আরেকজনের দ্বারা আক্রান্ত…

আর এভাবে দুনিয়াটাও বেশ ভালোই চলছে। নির্জনে নিভৃতে, সেই একই নিয়মে। এমনকি আমরাও…

ভালো চলছে না?

রুম অন্ধকার। নাম্বারটা বোধহয় ৩১৪। এই মূহুর্তে নিশ্চিতভাবে সেটা বলা যাচ্ছেনা। আমি কোনো ওয়ান ম্যান আর্মির সদস্য নই। সেরকম কেউ হলে সাথে অবশ্যই নাইটভিশন গ্লাস থাকত। বাতাসের অনুপস্থিতিতে শূণ্যতার এয়ারপোর্টে ল্যান্ড করা বায়োম্যাসড গ্রিন লিকুইডের মত নাইটভিশনের লাইট গ্রিন ভিউতে গাড় অন্ধকারের মধ্যেও চারহাত দুরের দেয়ালে ঝুলতে থাকা ক্যালেন্ডারের ছোট ডিজিটগুলো দেখা যায়। চাবির রিংয়ে লেখা ডিজিটগুলো তুলনামুলকভাবে আরো বড় হয়। দেয়ালে বসে থাকা টিকটিকি গুলোকে কুমির ভেবে গুলি করে দেয়া যায়…

অন্ধকারে দেখতে না পারাটাকে একধরণের অজ্ঞতা মনে হচ্ছে আমার কাছে। যদিও এটা ব্যাপার নাহ। ছোটবেলা থেকেই অনেক কিছু দেখেও না দেখার ভান করে থেকেছি। ওপাশের জানালায় চলমান ছায়া, দরজার ম্যাগনিফাইং গ্লাসে কারো সিড়ি বেয়ে উপরে উঠা, ডিরেক্ট কল হয়ে সাইলেন্ট মুডের ফোনে আসা কয়েকটা মিসড কল, সাথে আরো কিছু etc etc…

হারতে না শেখা মানুষগুলো আজকাল হারিয়ে যাচ্ছে। হারতে না চাওয়া মানুষগুলো হেরে যাওয়া শিখছে। দুইপক্ষই একজন আরেকজনের দ্বারা আক্রান্ত…

আর এভাবে দুনিয়াটাও বেশ ভালোই চলছে। নির্জনে নিভৃতে, সেই একই নিয়মে। এমনকি আমরাও…

ভালো চলছে না?

হেডলাইটের আলোয় একটি কুকুর …

shuvro-.jpg

বাইরে ঝুম বৃষ্টি। ফোনের স্ক্রিনের উপর তেঁতুল রেখে জানালা বন্ধ করতে গেলো শুভ্র। বিন্দুর বাবা দ্বিতীয় বিবাহ করেছেন। কনেপক্ষ বিন্দুর জন্য আচার পাঠিয়েছে। তার আচার খেতে বিরাট অনাগ্রহ। সে গতকাল বিকেলে এসে পুরো এক জার আচার শুভ্রকে দিয়ে গেছে। মেয়েদের তেঁতুলের আচারের প্রতি এত অনাগ্রহ ইতিপূর্বে কখনো দেখা যায়নি। অদ্ভুত ব্যাপার…

 

জানালা বন্ধ করে এসে শুভ্র দেখলো আচারের উপর দুটো ক‍ালো পিঁপড়া উবুত হয়ে শ‍ুয়ে আছে। বোধহয় মারা গেছে। টারটারিক এসিড খেয়ে পিঁপড়া মারা যাবে, এটাই স্বাভাবিক। তেঁতুলে টারটারিক এসিড বিদ্যমান। বিন্দু আকারে বড় এবং ফর্সা। নাহলে তাকেও কালো পিঁপড়া ভেবে কিছুক্ষণ হাসা যেত। একটা কালো পিঁপড়া মারা যাবার ভয়ে আচার খাচ্ছেনা। আরেকজনকে দিয়ে দিচ্ছে। এটা ভেবেই শুভ্র পৈশাচিক হাসিতে মেতে উঠলো।

 

অতঃপর ফোনের উপর রাখা তেঁতুলের আচারে এক চামচ মরিচের গুড়া আর বিটলবণ ছিটিয়ে খাওয়া শুরু করলো। এরমধ্যেই বিন্দু ফোন দিলো। ফোনের উপর অত্যন্ত সুস্বাদু খাবার রাখা হয়েছে। এই মুহূর্তে ফোন রিসিভ করা সম্ভব নয়। শুভ্র আচার খাওয়া চালিয়ে গেলো। ব‍ৃষ্টি আরো বেড়েছে। বাইরে অন্ধকার। একটু পরপরই আকাশে বিদ্যুৎ চমকে উঠছে…

 

হঠ‍াৎ জানালার কাঁচে একটা কুকুর নক করলো…

ফায়ারফ্লাই এক্সপ্রেস

firefly-express

রাত সাড়ে বারোটা। সব নিরব, একদম ঘুটঘুটে অন্ধকার। কোথেকে একটা জোনাকি পোকা এসে তানিমের গায়ে বসলো। নিশাত হাত বাড়ালো ওটাকে ধরার জন্য। অনুভুতিটা তানিমের জন্য চমৎকার। বাসের পেছনদিকে একজন বৃদ্ধলোক বসে আছে। তাকে দেখার জন্য পেছনে ফিরে তাকাতেই তানিম দেখলো পুরো বাস জুড়ে জোনাকি পোকার মিছিল। পাশে বসা মেয়েটির হাতে টোকা দিয়ে তাকে দেখতে বললো…

 

– পেছনে দেখেন একবার
– সুন্দর তো !
– আরো জোনাকি লাগবে?
– এনে দিবেন নাকি?
– না
– কেনো?
– চলেন ওদের বৃষ্টিতে ভিজি।

 

জোনাকি পোকার মিছিল দেখতে দুজনে একসাথে বাসের পেছন দিকে চলে গেলো। বৃদ্ধ লোকটার একটু পিছে গিয়ে বসলো। বাস বেশ জোরেসোরেই চলছে। মানবজাতির আগমণে জোনাকি পোকাগুলো বিরক্ত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। সবগুলো একসাথে আস্তে আস্তে সামনের দিকে চলে যাচ্ছে। এরা বোধহয় মানুষ পছন্দ করে না…

 

বাসেই পরিচয় হয়েছে নিশাত আর তানিমের। কথা বেশি হয়নি। স্বভাবতই তানিম একটু নীরব প্রকৃতির ছেলে। আর নিশাতও খুব চুপচাপ থাকতে পছন্দ করে।

 

– আচ্ছা জোনাকি পোকার ইংরেজি কি?
– লাইটিং বাগ
– কি বলেন ! আমি তো জানি ফায়ারফ্লাই।
– তাই! আমি বুঝিনি, আপনি প্রশ্ন করেছিলেন।
– মানে?
– মানে আমি ভেবেছিলাম আপনি জোনাকি পোকার ইংরেজিটা জানেন না।

 

নিশাত মুচকি হাসলো। এত অন্ধকারের মধ্যেও সে হাসিটা চোখে পড়েছে তানিমের। জোনাকিগুলো মিছিল করতে করতে আবার তাদের কাছে এসেছে। তানিমের মনে হচ্ছে সে নিশাতের প্রতি ‍দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। তাই সে জোনাকির মিছিল ভেদ করে ড্রাইভারের পাশে গিয়ে বসলো। একটা সিগারেট ধরিয়ে পেছনে তাকিয়ে দেখতে পেলো, জোনাকি পোকাদের সাথে খেলছে নিশাত। এতক্ষণ ধরে তার পাশে বসে থাকা ছেলেটির কথা হয়ত আর মনে নেই…

 

নিশ্চিন্ত হলো তানিম। সিগারেটের দিকে তাকিয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেললো। কখনো কখনো মন খারাপের অনুভূতিগুলোতেও স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে হয়।  সত্যিই অদ্ভুত !

জীবনকৃষ্ণ মেমোরিয়াল হাই স্কুল

jibonkrishno-memorial

বৃষ্টির সময় একটা অদ্ভুত ব্যাপার ঘটে। এসময় কারোই আলোর মধ্যে থাকতে ভালো লাগে না। বেশিরভাগ মানুষই এই সময়টা অন্ধকারে থাকতে পছন্দ করে। বৃষ্টির আগে পরের পরিবেশটাই বোধহয় এমন। অন্ধক‍ারে ঝিমানোর মত…

 

অন্ধকারে বসে বই পড়ার কোনো ব্যবস্থা থাকলে ভালো হত। অতিরিক্ত অন্ধকারের জন্য বই পড়া যাচ্ছেনা। ব্যাপারটা বিরক্তিকর হলেও উপভোগ্য। ঘরে আরেকজন মানুষ অথবা কিছু জোনাকি পোকা থাকা উচিত ছিলো। এত সুন্দর পরিবেশে এই মুহূর্তে ওয়াশরুমে ট্যাপের নিচে গিয়ে মাথা ভেজাতে মন চাচ্ছেনা। বিছানায় শুয়ে মাথায় পানি দেয়া দরকার। আরেকজন মানুষ থাকলে তাকে দিয়ে কাজটা করানো যেত। অথবা সে নিজ থেকেই করে দিত…

 

আর জোনাকি পোকাগুলো বইয়ের উপর এসে উড়াউড়ি করতো। তাদের দেহ থেকে বিচ্ছুরিত লুসিফারিন নামক পদার্থ অক্সিজেনের ছোঁয়া পেলে আলো উৎপন্ন করতো। সেই আলোয় বইটা কোনোরকমে পড়া যেত…

 

(লেখাটার জন্য কোনো শিরোনাম খুঁজে পাওয়া গেলো না। হাতের কাছে হুমায়ূন আহমেদ স্যারের একটা বই আছে – জীবনকৃষ্ণ মেমোরিয়াল হাই স্কুল। অনুমতি ছাড়াই নামটা চুরি করলাম)

এন্ড সামটাইমস উই আর সর্বভুক !

%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%aa%e0%a7%81-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%ad%e0%a7%81%e0%a6%95-e14

ভুনা খিচুড়ির আয়োজন করা হচ্ছে। সাথে খাসির ঝাল ফ্রাই। আমি সালাদ বানানোর দায়িত্বে আছি। টমেটো কাটার পর দ্রুতবেগে মরিচ কোপানো শুরু করলাম। সামনে পেঁয়াজ অপেক্ষা করছে। যত দ্রুত সম্ভব, মরিচগুলা কেটেই আমাকে পালাতে হবে…

 

টাইমিংয়ে একটু ভুল থাকায় পালানো সম্ভব হলোনা। ডিএনজির দামি সানগ্লাসটা চোখে লাগিয়ে পেঁয়াজ কাটা শুরু করলাম। গতবছর এই সানগ্লাসটা ফেসবুকের এক ছোটভাই আমার বার্থডেতে গিফট করেছিলো। চশমা পরেও লাভ হলোনা। চোখে একরাশ জল নিয়ে বাড়ির গেটে এসে দাঁড়ালাম। বাইরের ঠান্ডা বাতাস চোখে পরলে জ‌্বালাপোড়া ভাবটা একটু কমতে পারে…

 

গেটে এসে দেখি দোতলার ফ্লাটের আংকেল মহা আনন্দে বিড়ি ফুঁকছেন। আর মোবাইলে কি একটা পুরনো হিন্দি ফিল্মের গান শুনছেন। আমাকে দেখে সিগারেট ফেলে দিয়ে নিষ্পাপ হয়ে গেলেন তিনি…

 

– বাবা কি হইছে? কাঁদো ক্যান?

– নাহ কিছুনা তো।

– না বাবা তুমি আমার কাছে কথা লুকাইয়ো না।

– আরে ধুর। কিচ্ছু হয় নাই।

– বাবা রে, সংসারে একটু ঝগড়াবিবাদ হবেই। এইগুলা ব্যাপার নাহ।

– ধুর আংকেল। কি বলেন এসব। আমি আনম্যারেড !

– অহ !  তুমি তো মিয়া এমনেও পুরাই মোমের মানুষ। তো কি এমন হইলো যে কান্নাকাটি লাগাইছো?

– পেঁয়াজ কাটছি। সেজন্যে চোখে পানি আসছে।

– আমি কি এতোই বোকা? তুমি বললা আর আমি বিশ্বাস গেলাম?

 

বিরাট মুসিবতে পরে গেলাম এই টাকলাটারে নিয়ে। ব্যাটাকে কোনোভাবেই বিশ্বাস করাতে পারলাম না যে বাসায় কোনো ঝামেলা হয়নি। পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে চোখে পানি এসেছে, এটা তার কাছে বিশ্বাসযোগ্য নয়। কথায় আছে, বাঙ্গালী একবার ইমোশনাল হলেই কাম সারছে। ইচ্ছেমতো কন্ট্রোলে নিয়ে নেয়া যায়…

 

আংকেল সাহেব আমাকে কোক খাওয়ানোর অফার করলেন। এইমুহুর্তে এক বোতল কোকের খুব প্রয়োজন ছিলো। এত্ত ঝাল দিয়ে ভুনাখিচুড়ি খেলে পেটে গোলমাল হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তাই সৌজন্য দেখানোর ধারেকাছেও গেলাম না…

 

আসলে, আংকেলরাই আমাদের প্রয়োজন বুঝেন 😀

 

(এধরণের ফালতু এবং থার্ডক্লাস পোস্টের কোনো টাইটেল হয়না, হতে পারেনা। তাই মনগড়াভাবে একটা টাইটেল বানিয়ে নিলাম- “এন্ড সামটাইমস উই আর সর্বভুক !” )

চল বৃষ্টিতে ভিজি !

rain.jpg

চল বৃষ্টিতে ভিজি…ভিজলাম। ভিজে তাকে গাড়িতে উঠিয়ে দিয়ে আসলাম। নিজেকে দারোয়ান মনে হচ্ছে। প্রথম শ্রেণীর বড়লোকদের বাড়ির ‍দারোয়ান। এদের সচরাচর ঝিমাতে দেখা যায়না। সবসময় এরা সতর্ক অবস্থানে থাকে। আর ড্রাইভাররা থাকে চা সিগারেট এবং পত্রিকা নিয়ে ব্যস্ত। বাড়ির মালিক যখন ভেতর থেকে বের হয়, তখন দারোয়ান গেট খুলে দৌড়ে গাড়ির সামনে যায়। মালিক গাড়ির সামনে চলে এলেই সে স্যালুট দিয়ে গাড়ির দরজা খুলে দেয়। স্যালুটের অপব্যবহার নিয়ে দেশে কোনো আইন নেই। অতএব, যাকে যখন খুশি দুচারটা স্যালুট দেয়াই যায়…

সেদিন বুধবার ছিলো হয়ত…

পান্হপথ, বসুন্ধরা সিটির সামনে সিড়িতে দাঁড়িয়ে আছি। সন্ধ্যা সাতটার মত হবে। পুরো শপিংমল বন্ধ। শুধু সিনেপ্লেক্সটা খোলা। একজনকে দেখতে এসে পুরো দেড়ঘন্টার একটা মুভিই দেখে ফেলেছি। বাইরে ঝুম বৃষ্টি। রাস্তার ওপাড়ে একটার পর একটা ট্রান্সমিটারের সার্কিট ব্লাস্ট হচ্ছে। দেখতে ভালোই লাগছে। পাশেরজন নীরব…

এসময় কার কথা মনে পড়তে পারে, তা আমি বুঝি। আমারো বৃষ্টি দেখলে কোনো একজনের কথা মনে হয়। মানবজাতির অলিখিত ধর্ম…

… চল্ বৃষ্টিতে ভিজি !

পাশের জন নীরব। আমি স্ট্রীটলাইটের দিকে তাকালাম। এটা অসহায়ত্বের চিহ্ন। অসহায় হলে মানুষ লাইটপোস্টের প্রেমে পড়ে। নিয়ন আলোয় রাস্তার পিচ দেখে। আমিও দেখার চেষ্টা করলাম। পাশেরজন অসহায়ত্বের ব্যাপারটা বুঝতে পেরে মুখ খুললো…

” চল ! ”

শপিংমলের সামনের ইয়ার্ড পেরিয়ে তাকে ট্যাক্সি ক্যাবে উঠিয়ে দেয়ার আগপর্যন্ত মাত্র দুমিনিট সময় পেলাম। বৃষ্টিতে ভেজার ! এই দুমিনিট, আমার দেখা জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়গুলোর একটা বলা যেতে পারে। অবশ্য না বললেও লস নেই। গুরুত্বহীন টপিক…

ওকে ক্যাবে উঠিয়ে দিয়ে আমি আমার পথে হাঁটা ধরলাম। বৃষ্টি চা খেতে ইচ্ছে হলো। চা খেতে গিয়ে দেখলাম, পকেটে টাকা নেই। সিনেপ্লেক্সের টিকিটের সাথে টাকাও ফেলে দিয়ে এসেছি !

পান্থপথ মোড় থেকে হাঁটা শুরু করলাম। মানবশূন্য গাড় অন্ধকার রাস্তা। কুকুরও দেখা যাচ্ছেনা আশেপাশে। রমনা পর্যন্ত এসে হাপিয়ে উঠলাম। প্রিয়াংকা কি ঠিকমত বাসায় গিয়ে পৌঁছেছে? এতক্ষণে তো অবশ্যই চলে যাবার কথা ! পকেট থেকে ফোন বের করে দেখলাম, বৃষ্টির পানিতে সে মারা গেছে। একমিনিট নীরবতা পালন করে আবারো হাঁটা ধরলাম…

‘চল বৃষ্টিতে ভিজি…’

এইপ্রথম নিজের বলা কোনো একটা সাধারণ কথা নিজের কাছেই এত ভালো লাগছে। হাঁটছি আর মনে মনে বলছি, চল বৃষ্টিতে ভিজি !

রাত এগারোটা,

চল বৃষ্টিতে ভিজি…

রাত সাড়ে এগারোটা,

ফোন অন হচ্ছেনা। সে বাসায় পৌঁছালো কিনা, খোঁজ নেয়ার কোনো উপায় নেই। আমি ডিম ভাজা নিয়ে ব্যস্ত হবার কথা ভাবছি। কারো প্রতি দুর্বল হতে ইচ্ছে করছে না…

রাত ১২:০০ টা…

ডিম ভেঙ্গে ফ্রাইপেনে দিয়ে রেখেছি। চুলায় আগুন জ্বালানোর কথা মনে ছিলোনা। আমি বসে বসে আলু কাটছি। আলুর খোসা ছাড়াতে ছাড়াতে বলছি, ভা চল বৃষ্টিতে ভিজি ! চল বৃষ্টিতে ভিজি !

বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে। আমি একটার পর একটা আলু কেটে যাচ্ছি। বৃষ্টির শব্দ শুনে বারবার কয়েকঘন্টা পেছনে ফিরে যাচ্ছিলাম। মনে হচ্ছিলো, আমি মাত্র দুমিনিট যাবৎ আলু কাটছি !